চরমপন্থা, মতবাদ এবং মানবিক সমাজ: একটি বিশ্লেষণ
মানব ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান দেখায় যে, যেকোনো মতবাদ—ধর্ম, রাজনৈতিক ধারণা, বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ন্যারেটিভ যেমন নার্সিসিজম—সদস্যদের মধ্যে একই ধরনের ধারা তৈরি করে। অনুসারীদের বৃহৎ অংশ সাধারণভাবে দৈনন্দিন জীবনযাপন করে, নীরব এবং নিষ্ক্রিয় থাকে। তারা নেতৃত্বের জন্য লড়াই করে না, ক্ষমতার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয় না। তবে এই বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ অংশের ভেতর থেকে ছোট একটি সংখ্যালঘু অংশ চরমপন্থী হয়ে ওঠে। এই সংখ্যালঘু চরমপন্থী বিশ্বাস করে তারা নেতা হওয়ার যোগ্য এবং ক্ষমতা অর্জনের অধিকার তাদেরই বেশি। এই সংখ্যালঘু চরমপন্থীর কর্মকাণ্ডই শেষ পর্যন্ত পুরো গোষ্ঠীর গতিপথ নির্ধারণ করে। নিষ্ক্রিয় সাধারণ অংশ অজান্তে এই চরমপন্থী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন বা রক্ষা করে, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে চরমপন্থাকে পুনরুৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি সামাজিক মনোবিজ্ঞান ও ইতিহাসের আলোকে “Silent majority effect” নামে পরিচিত। ইতিহাস এবং বাস্তবতার আলোকেও দেখা যায়—চরমপন্থীরাই সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ঘটায়। তারা সংঘর্ষ, যুদ্ধ, নারী নির্যাতন, জাতিগত সহিংসতা এবং ধর্মীয় দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত থাকে। এই ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষে...